প্রথম পাতা > উবুন্টু ইন্সটল করা > উবুন্টু ১০.০৪ ইনস্টল করা [লাইভ সিডি অথবা ইউএসবি থেকে]

উবুন্টু ১০.০৪ ইনস্টল করা [লাইভ সিডি অথবা ইউএসবি থেকে]

মে 14, 2010

উবুন্টু ওয়েবসাইট থেকে উবুন্টু লাইভ সিডি ডাউনলোড করার অপশন দেয়া থাকে। ডাউলোডের পর এটি সিডিরম ড্রাইভে বার্ণ করে অথবা ইউএসবি ড্রাইভ বুটেবল হিসাবে তৈরী করে ব্যবহার করা যায়।   লাইভ সিডি হল এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ইনস্টল না করেও অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে কম্পিউটারে ইনস্টল করেই ব্যবহার করা উচিত। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী কম্পিউটারে উবুন্টু ইনস্টল করে উইন্ডোজের পাশাপাশি ব্যবহার করা যাবে।

ইনস্টল করার পূর্বে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিৎ

*  কম্পিটারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলা অন্য কোথাও কপি করে রাখা উচিৎ। এটা ৯৯.৯৯% নিশ্চিত যে কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের কোন প্রকারের কোন ক্ষতি হবে না, তবে ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে আপনি এ কাজটি করতে পারেন।

* কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক কিভাবে পার্টিশন করবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখা।

* নির্ধারিত পার্টিশন সহজে খুঁজে পেতে পার্টিশনটির আকার এবং ব্যবহৃত অংশ কোথাও লিখে রাখুন।

ইনস্টল শুরু করা

উবুন্টু ইনস্টল করার জন্য প্রথমে উবুন্টু সিডি অথবা লাইভ ইউএসবি ড্রাইভটি কম্পিউটারে সংযুক্ত করে রিস্টার্ট করতে হবে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে ফার্স্ট বুট অবশ্যই সিডিরম ড্রাইভ/ ইউএসবি হতে হবে। ফার্স্ট বুট হার্ডডিস্ক হলে আবার উইন্ডোজই চালু হব।ফার্স্ট বুট হার্ডডিস্ক দেয়া থাকলে বায়স থেকে তা পরিবর্তন করে নিতে হবে। Esc, F1, F2, F12, Delete ইত্যাদি সুইচ চেপে বায়স সেটিং-এ প্রবেশ করতে হয়। কোন সুইচ চেপে বায়স এ যেতে হব তা সাধারনত কম্পিউটার অন হওয়ার সময় দেখায়। ইউএসবি ড্রাইভ থেকে বুট চালু করার জন্য প্রাথমিক বুট ডিভাইস হিসাবে ইউএসবি নির্বাচন করতে হবে । এই অংশটি না থাকলে প্রাথমিক ড্রাইভ হার্ডডিস্ক দিতে হবে এবং হার্ডডিস্ক সমূহের মধ্যে ইউএসবি এর ক্রম উপরে থাকতে হবে।

যদি ফার্স্ট বুট সিডি দেয়া থাকে তবে আপনি নিচের মত উইন্ডো দেখতে পাবেন, এখান থেকে ভাষা নির্বাচন করতে হয়। ইংরেজী ভাষার পাশাপাশি বাংলাতেও ব্যবহারের অপশন পাওয়া যাবে এখানে।

Try Ubuntu without any change to your computer (প্রথম অপশন) অপশনটি ব্যবহার করে ইনস্টলের পূর্বে লাইভ সিডিটির মাধ্যমে উবুন্টু ব্যবহার করা যাবে।  সেখান থেকে Install Ubuntu 10.04 LTS নামের আইকনটি চালু করুন। লাইভসিডি থেকে উবুন্টু ব্যবহার করার সময় কিছু কিছু কাজ করার সময় অতিরিক্ত কিছু সময় লাগতে পারে। যেহেতু প্রতিটি কাজ সিডিরম থেকে মেমরীর উপর ভিত্তি করে চালানো হয় তাই এই সমস্যা হতে পারে। উবুন্টু লাইভ সিডি চালানো হলে ডেক্সটপে ইনস্টল নামে একটি বাটন থেকে যেটি ব্যবহার করে ইনস্টল করতে হবে।

এরপর সিডি থেকে ইনস্টলের প্রয়োজনীয় কাজ হতে থাকবে যা প্রগ্রেস বারের মাধ্যমে দেখানো হবে। এরপর আপনাকে কতগুলা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যেমন কোন ভাষায় উবুন্টু ইনস্টল করতে চান, আপনার অবস্থান কোথায়, কী-বোর্ড লেয়াউট কেমন হবে ইত্যাদি। এটি আপনার প্রথম উবুন্টু ইনস্টল হলে আপনার উচিৎ ইনস্টলের ভাষা বাংলা নির্বাচন করা এর ফলে পরবর্তী ধাপগুলি আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। তবে বাংলাতে ইনস্টল করা হলেও ইংরেজীতে ব্যবহারের অপশন সয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে।
ভাষা বাংলা নির্বাচন করা হলে সয়ংক্রিয়ভাবে ঘড়ি বাংলাদেশ সময়ের সাথে সমন্বয় করা হবে। এবং আপনার অবস্থান বাংলাদেশ হিসাবে চিহ্নিত করা হবে। এর পরবর্তী ধাপ “কীবোর্ড লেআউট নির্বাচন করা” । এখানে সয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কীবোর্ড লেআউট নির্বাচন করা থাকবে । তবে এটি পরিবর্তন করে USA লেআউট নির্বাচন করতে হবে । কারণ বাংলাদেশের সকল কীবোর্ড USA লেআউট অনুযায়ী তৈরী করা হয়। কীবোর্ড লেআউট নির্বাচনের পরের ধাপটি হল হার্ডিস্ক পার্টিশন করা ।

উপরের বিষয়গুলা ঠিকমত শেষ হলে হার্ডডিস্ক পার্টিশন করার জন্য ৩টা অপশন দেখাবে।

১ম অপশন (প্রতিবার স্টার্টআপের সময় বেছে নেয়ার মত পাশাপাশি ইনস্টল করুন)

যারা একই সাথে উইন্ডোজ ও উবুন্টু ডুয়েলবুট হিসাবে ব্যাবহার করতে চায় এবং ইনস্টল পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই তারা এই অপশন ব্যাবহার করে উবুন্টু ইনস্টল করতে পারেন। এখানে যে ড্রাইভে “উইন্ডোজ” ইনস্টল করা আছে সেই ড্রাইভের খালি অংশে উবুন্টুর জন্য আলাদা একটি পার্টিশন তৈরী করে ইনস্টল হয়। তবে C: ড্রাইভে জায়গা কম থাকলে D:, E: এর মত পরবর্তী ড্রাইভগুলিতে ইনস্টল করার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে খালি জায়গাটুকু উবুন্ট ও উইন্ডোজ কী অনুপাতে ব্যবহার করবে তা ঠিক করে দেয়া যায়। ঐ ড্রাইভে যদি অত্যন্ত কম জায়গা থাকে তবে এর পরের ড্রাইভ পার্টিশনের জন্য বেছে নেয়া হয়।

২য় অপশন (পুরো হার্ডডিস্ক মুছে ব্যবহার করুন)

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম মুছে যাবে এবং উবুন্টু ইনস্টল করার জন্য সম্পূর্ণ হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হবে। সম্পর্ণ খালি কোন হার্ডিস্কে ইনস্টলের সময়ই কেবলমাত্র এই অপশনটি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যথায় কম্পিউটারে সংরক্ষিত সকল তথ্য মুছে যেতে পারে।

৩য় অপশন (নিজহাতে পার্টিশনগুলি নির্ধারণ করুন (দক্ষতর))

ম্যানুয়ালী কোন ড্রাইভে ইনস্টল করা যাবে এই পদ্ধতিতে। তবে এভাবে ইনস্টল করতে চাইলে ইনস্টল প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ধারনা থাকতে হবে। যেমন লিনাক্সে ইনস্টলের ড্রাইভ ছাড়াও swap নামে আলাদা একটি ড্রাইভ তৈরী করতে হয়। এটি হার্ডডিস্কের একটি অংশ হলেও প্রযোজন অনুযায়ী এটি   ভার্চুয়াল মেমরীর মত কাজ করে থাকে। এই অপশনটি ব্যবহার করে ইনস্টল করা হলে নিশ্চিত হতে হবে আপনি কোন ড্রাইভে ইনস্টল করতে চান। প্রয়োজনে আগে থেকেই সেই ড্রাইভটি খুলি করে রাখতে পারেন।

এখন ৩য় অপশনটি ব্যবহার করে ইনস্টল পদ্ধতি দেখানো হবে

৩নম্বর অপশনটি সিলেক্ট করে Forward কী চাপলে হার্ডডিস্ক এর সবগুলা পার্টিশন এর নাম দেখাবে। তবে এখানে উইন্ডোজের মত Partition 1, Partition 2. . . ইত্যাদি দেখাবে না, লেখা থাকবে /dev/sda1, /dev/sda5, /dav/sda6. . ., অথবা /dev/hda1, /dev/hda5, /dav/hda6. . . ইত্যাদি , এখানে /dev/hda1 হল C ড্রাইভ,/dev/hda5 হল D ড্রাইভ,/dev/hda6 হল E ড্রইভ। মূলত /dev/sda5 হবে D ড্রাইভ এবং এরপর থেকে /dev/sda6,/dev/sda7,/dev/sda8 হবে যথাক্রমে E,F,G ড্রাইভ। নিশ্চিত হতে ড্রাইভের আকার এবং ব্যবহৃত অংশের পরিমান দেখা যেতে পারে। এভাবে আপনার কাঙ্খিত ড্রাইভটা সিলেক্ট করে পার্টিশনটা Delete করুন। তখন জায়গাটুকু Free Space হিসাবে দেখাবে।

আপনি যদি উইন্ডোজ ব্যবহারকারী হন তবে সবচাইতে ভালো হয় যদি আপনি উইন্ডোজ থেকে নির্দিষ্ট ড্রাইভটি আগে থেকেই ফরম্যাট করে দুটি আলাদা ড্রাইভ হিসাবে তৈরী করে রাখেন। দুটি ড্রাইভের একটি নূন্যমত ৫ গিগাবইট জায়গা দিন এবং অপরটি ১গিগাবাইট জায়গা দিয়ে তৈরী করতে পারেন।  যদিও উবুন্টু ইনস্টলের সময় এই কাজটি করা যাবে তবে প্রথমবার ইনস্টল করার সময় অথবা নিশ্চিত ভাবে ইনস্টল করতে এই কাজটি করতে পারেন।

উইন্ডোজ থেকে ড্রাইভ তৈরী করা না থাকলে উবুন্টু ইনস্টলের সময় এই কাজটি করার পদ্ধতিটি দেখানো হচ্ছে।

এবার কম্পিউটারের RAM এর দ্বিগুন সাইজের(RAM 256 হলে 512) Swap নামে একটা ড্রাইভ বানাতে হবে। তবে RAM ১গিগাবাইট বা এর বেশী হলে এজন্য swap এর জন্য ১গিগাবাইট বা এর কম জায়গা ব্যবহার করতে পারেন। Free Space সিলেক্ট করে Add ক্লিক করুন। “নতুন পার্টিশনের আয়তন” এ RAM এর দ্বিগুন পরিমান লিখুন, “যেভাবে ব্যবহার করা হবে” এর পাশের ড্রপ ডাউন লিস্ট হতে swap area(সোয়াপ স্থান) সিলেক্ট করে OK করুন।

অবশিষ্ট Free space আবার সিলেক্ট করে আবার Add ক্লিক করুন। “নতুন পার্টিশনের আয়তন” এ নূন্যতম 5000 লিখুন, “যেভাবে ব্যবহার করা হবে“ এর পাশের ড্রপ ডাউন লিস্ট হতে ext3, “মাউন্ট পয়েন্ট” এর পাশের ড্রপ ডাউন লিস্ট হতে / সিলেক্ট করে Ok করুন। সেই সাথে পার্টিশন ফরম্যাট করো এর পাশের বক্সে টিক চিহ্ন দিন।
পার্টিশন শেষ হওয়ার পর তালিকাটি নিচের মত দেখা যাবে।
হার্ডডিস্ক পার্টিশন করার পর আপনার নাম, ব্যাবহারকারীর নাম(যে নামে লতইন করতে চান) ও পাসওয়ার্ড(Password) লিখতে হবে। পাসওয়ার্ড ৮ অক্ষরের কম হলে বা খুবই সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হলে একটি সতর্কতা বার্তা দেখাতে পারে।
উইন্ডোজ এর কোন ব্যাবহারকারীর নিজেস্ব সেটিং বা উইন্ডোজের  My Documents ফোল্ডারে সবকিছু উবুন্টুতে ইম্পোর্ট করতে চান কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। উবুন্টু থেকে উইন্ডোজের সকল ফাইল ব্যবহার ও সম্পাদনা করা যায়, তাই কোন ফাইল ইম্পোর্ট করার কোন প্রয়োজন নেই।
এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে জানানো হবে আপনি ভাষা, কী-বোর্ড লেয়াউট, লগইন নাম, অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে কী কী নির্বাচন করেছেন। এই উইন্ডোর “ইনস্টল” বাটনে ক্লিক করলে ইনস্টল শুরু হবে।  ইনস্টলের বিভিন্ন পর্যায়ে উবুন্ট কি , এটি ব্যবহারের সুবিধা এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের বৈশিষ্টগুলি দেখানো হয়। ইনস্টল শেষ হলে নতুন একটি উইন্ডো দেখা যাবে । সেখানে জানানো হবে ইনস্টল সম্পন্ন এবং লাইভ সিডি পরীক্ষা চালিয়ে যেতে চান কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। সেখান Restart Now বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর থেকে প্রতি বার কম্পিউটার চালু করার সময় উবুন্টু এবং উইন্ডোজ নির্বাচন করার অপশন থাকবে।
Advertisements
%d bloggers like this: